পরিষদের লোগোজমিরিয়া তা'লিম ও তায্‌কিয়া পরিষদ বাংলাদেশঘরে ঘরে আলেম ও মুত্তাকী বান্দা, উন্নত হোক দেশের শিক্ষা
← অন্তর্ভুক্তি

অন্তর্ভুক্তির মান ও মাপকাঠি

পরিষদ চায় অধীনস্থ প্রতিটি মাদরাসা মজবুত, স্বচ্ছ ও নিরাপদ হোক। তাই সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে মান ধরে রাখাই আমাদের নীতি। অন্তর্ভুক্তির আবেদন পাওয়ার পর পরিষদ কাগজপত্র যাচাই করে, প্রয়োজনে পরিদর্শন করে এবং এই মাপকাঠির আলোকে সিদ্ধান্ত নেয়। অন্তর্ভুক্তির জন্য কোনো ফি নেই। এলোমেলো, অপ্রস্তুত বা কাগজপত্রহীন প্রতিষ্ঠানকে আগে প্রস্তুত হতে বলা হয়।

এই তালিকা পরিষদের অন্তর্ভুক্তির মাপকাঠি। প্রয়োজনে পরিষদ এতে সংশোধন আনতে পারে।

১. প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা

  • প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম সৎ, পরিচিত ও আস্থাভাজন হবেন; এলাকায় তাঁদের সুনাম থাকতে হবে।
  • পরিচালনা কমিটি থাকবে এবং নিয়মিত সভা হবে; সভার কার্যবিবরণী লেখা থাকবে।
  • প্রধান মুহতামিম এবং (থাকলে) সহকারী বা ভারপ্রাপ্ত মুহতামিমের দায়িত্ব স্পষ্ট ও লিখিত হবে।
  • প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়মনীতি থাকবে এবং তা গঠনতন্ত্রের সাথে সাংঘর্ষিক হবে না।

২. জমি, ভবন ও সুবিধা

  • জমির কাগজ (দলিল, ওয়াকফ, ভাড়া-চুক্তি যা-ই হোক) পরিষ্কার ও আইনসম্মত হতে হবে। জমি নিয়ে চলমান বিরোধ থাকলে আবেদনের সময় তা জানাতে হবে।
  • ভবন নিরাপদ, পর্যাপ্ত আলো-বাতাসযুক্ত ও পরিচ্ছন্ন হবে।
  • ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যার তুলনায় পর্যাপ্ত টয়লেট, বিশুদ্ধ পানি ও বিদ্যুৎ থাকবে।
  • আবাসিক হলে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত হবে।
  • ছাত্রীদের জন্য পৃথক ও পর্দাসম্মত ব্যবস্থা থাকবে।

৩. নিরাপত্তা ও শিশু সুরক্ষা

  • সিসি ক্যামেরা: ক্লাসরুমের বাইরের প্রধান স্থান, প্রবেশপথ ও আবাসিক এলাকার চলাচলের জায়গায় ক্যামেরা ও রেকর্ডিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। রেকর্ড কতদিন রাখা হবে ও কে দেখতে পারবে তা নির্ধারিত থাকবে। গোপনীয়তার জায়গায় (টয়লেট, গোসলখানা, শয়নকক্ষ) ক্যামেরা বসানো যাবে না।
  • শিশু নিরাপত্তা নীতি: শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন নিষিদ্ধ। কোনো শিক্ষক একা কোনো শিশুকে নির্জনে রাখবেন না।
  • অভিযোগের ব্যবস্থা: ছাত্র বা অভিভাবক সহজে অভিযোগ জানাতে পারবে এবং তা গুরুত্বের সাথে দেখা হবে।
  • অতিথি ও অভিভাবকের প্রবেশ: নিয়ম ও রেজিস্টার থাকবে।
  • অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি নির্গমন: অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ও প্রস্থানপথ থাকবে।
  • প্রাথমিক চিকিৎসা: প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স এবং জরুরি যোগাযোগের তালিকা থাকবে।

৪. পড়াশোনা ও শিক্ষক

  • পরিষদের নির্ধারিত সিলেবাস (৬ স্তর, ১৫ বছর) অনুসরণের প্রস্তুতি থাকবে। অন্য বোর্ডের অধীনে থাকলে তাদের পাঠদান-পদ্ধতি পরিষদ দেখে সমন্বয়ের পরিকল্পনা করবে। কোনো বোর্ডের অধীনে না থাকলে কী ও কীভাবে পড়ানো হয় তা পরিষদ তদারকি করে পরিকল্পনা তৈরি করবে।
  • শিক্ষকদের যোগ্যতা যাচাই করা এবং লিখিত নিয়োগপত্র থাকবে। নূরানী বিভাগে নূরানী-প্রশিক্ষিত শিক্ষক পড়াবেন।
  • ক্লাস নিয়মিত, হাজিরা খাতা হালনাগাদ এবং ছাত্রদের হাতের লেখা ও পড়ার তদারকি থাকবে।
  • শিক্ষকের বেতন নির্ধারিত ও নিয়মিত হবে।

৫. হিসাব ও স্বনির্ভরতা

  • আয়-ব্যয়ের খাতা, রসিদ ও ভাউচার থাকবে। যাকাত, সদাকা ও সাধারণ চাঁদার তহবিল আলাদা রাখা হবে।
  • মাসিক প্রতিবেদন পরিষদের পোর্টালে নিয়মিত জমা দেওয়া হবে এবং বছরে অডিট হবে।
  • মাদরাসা শুধু চাঁদা-সংগ্রহের উপর নির্ভর না করে ধীরে ধীরে নিজস্ব আয়ের উৎস গড়ার পরিকল্পনা করবে (যেমন ছাত্র-ফি, জমি বা দোকানের আয়, প্রকাশনা, স্থায়ী তহবিল, ওয়াকফ)।
  • সামর্থ্যবান মানুষ যাতে নিজে থেকে নিয়মিত দান-সদাকা করতে পারেন, সে জন্য স্বচ্ছ হিসাব ও দাতা-প্রতিবেদনের ব্যবস্থা থাকবে।

৬. আখলাক ও তাযকিয়া

  • ছাত্রদের সালাত, আদব ও দৈনন্দিন আমলের তদারকি থাকবে।
  • নিয়মিত ইসলাহী মজলিস ও তারবিয়াতের ব্যবস্থা থাকবে।
  • প্রতিষ্ঠান রাজনীতিমুক্ত থাকবে।

৭. প্রস্তুতি: আবেদনের সময় যা লাগবে

  1. প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, প্রতিষ্ঠার সাল ও ধরন
  2. পরিচালক ও কমিটির সদস্যদের তালিকা ও মোবাইল নম্বর
  3. জমি ও ভবনের কাগজের কপি
  4. ছাত্র ও শিক্ষকের সংখ্যা, বর্তমান সিলেবাস ও বই
  5. গত এক বছরের আয়-ব্যয়ের সংক্ষিপ্ত হিসাব
  6. আগে কোনো বোর্ডের অধীনে থাকলে তার নাম

আবেদন করুন অনলাইনে। প্রক্রিয়ার বিস্তারিত দেখুন অন্তর্ভুক্তির নিয়ম এবং গঠনতন্ত্র পাতায়।

অন্তর্ভুক্তির পরে

অনুমোদিত মাদরাসা একটি স্থায়ী ৪ অঙ্কের মাদরাসা আইডি ও পোর্টালের লগইন পায়। এরপর প্রতি মাসে প্রতিবেদন জমা দেওয়া, বছরে অডিট, কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণের সুযোগ চালু হয়। বিস্তারিত দেখুন কার্যক্রম।

সর্বশেষ হালনাগাদ: ৬ নভেম্বর ২০২৬