পরিষদের লোগোজমিরিয়া তা'লিম ও তায্‌কিয়া পরিষদ বাংলাদেশঘরে ঘরে আলেম ও মুত্তাকী বান্দা, উন্নত হোক দেশের শিক্ষা
← পরিচিতি

গঠনতন্ত্র

এই গঠনতন্ত্র পরিষদের কাজ, কাঠামো এবং অধীনস্থ মাদরাসাগুলোর সাথে সম্পর্কের মূল নিয়ম। সংখ্যা, মেয়াদ ও সদস্য-নির্বাচনের মতো যেসব বিষয় সময়ে সময়ে ঠিক করা হয়, সেখানে "পরিষদ নির্ধারণ করবে" লেখা আছে।

ধারা ১: নাম, ঠিকানা ও কার্যক্ষেত্র

  1. পরিষদের নাম: জমিরিয়া তা'লিম ও তায্‌কিয়া পরিষদ বাংলাদেশ (এরপর "পরিষদ")।
  2. আরবি নাম: المجلس الضميري للتعليم والتزكية بنغلاديش। ইংরেজি নাম: Jamiria Ta'lim & Tazkia Parishad Bangladesh।
  3. প্রধান কার্যালয়: জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুর, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম।
  4. কার্যক্ষেত্র: সমগ্র বাংলাদেশ। প্রয়োজনে জেলাভিত্তিক আঞ্চলিক কার্যালয় থাকবে।

ধারা ২: প্রতিষ্ঠা ও পটভূমি

  1. কুতুবুল আলম আল্লামা শাহ জমির উদ্দীন নানুপুরী রহ. ৮ জুলাই ২০১০ ঈসায়ী তারিখে ৩৬ জন দক্ষ ও বিজ্ঞ সদস্যের একটি কমিটির সমন্বয়ে পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন।
  2. তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর মিশনকে এগিয়ে নিতে ১০ জুন ২০১৪ ঈসায়ী তারিখে অভিজ্ঞ ও সুদক্ষ সদস্যদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়।
  3. পরিষদ একটি দ্বীনী শিক্ষা ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান।

ধারা ৩: মূলনীতি

  1. পরিষদ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকীদা ও হানাফী-দেওবন্দী ধারা অনুসরণ করে।
  2. পরিষদ সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত। কোনো রাজনৈতিক দল বা মতের পক্ষে বা বিপক্ষে পরিষদের নামে কিছু করা যাবে না।
  3. পরিষদের সব কাজ সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পরামর্শের ভিত্তিতে চলবে।
  4. পরিষদ কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা বোর্ডকে হেয় করবে না; মতভেদ হলে আদব ও ভদ্রতা বজায় রাখবে।

ধারা ৪: লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

  1. প্রতিটি মুসলিম পরিবারের দোরগোড়ায় দ্বীনী শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া এবং ঈমান-আমলের পরিবেশ গড়ে তোলা।
  2. শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় জ্ঞানের জন্য অপরিহার্য বিষয়গুলো শেখানো।
  3. পূর্ণাঙ্গ সুন্নাতে নববীর অনুসারী আদর্শ মানুষ তৈরি করা।
  4. বিজাতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতিমুক্ত এমন সমাজ গড়া, যারা সাহাবায়ে কেরামের গুণাবলীতে গুণান্বিত হবে এবং সমাজে দ্বীন কায়েমের চেষ্টা করবে।
  5. অধীনস্থ মাদরাসাগুলোর শিক্ষার মান, চরিত্র গঠন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটানো।
  6. সিলেবাস, পরীক্ষা ও মূল্যায়নে একই মান বজায় রাখা।
  7. শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ, ন্যায্য বেতন ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সহায়তা করা।

ধারা ৫: সদস্যপদ ও অন্তর্ভুক্তি

  1. পরিষদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও গঠনতন্ত্রে একমত যেকোনো কওমী মাদরাসা, হিফজখানা বা দ্বীনী প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবে।
  2. অন্তর্ভুক্তির জন্য কোনো ফি নেই।
  3. আবেদন ওয়েবসাইটে অনলাইনে হবে। আবেদনকারী মোবাইল নম্বর যাচাই করবেন, প্রতিষ্ঠান, পরিচালক, কমিটি, জমি-ভবন ও আর্থিক অবস্থার তথ্য দেবেন এবং আবেদনপত্র প্রিন্ট করে পীর সাহেব হুজুরের স্বাক্ষর নেবেন।
  4. পরিষদ আবেদন পর্যালোচনা করবে, প্রয়োজনে পরিদর্শন করবে এবং কারণসহ সিদ্ধান্ত জানাবে।
  5. অনুমোদিত হলে মাদরাসা একটি স্থায়ী ৪ অঙ্কের মাদরাসা আইডি এবং দুটি লগইন (মুহতামিম ও তা'লীমাত) পাবে। পুরনো ইলহাকী নম্বর বাতিল গণ্য হবে।
  6. অন্তর্ভুক্ত মাদরাসা পরিষদের নাম ও পরিচয় ব্যবহারের সময় পরিষদের নিয়ম মানবে।

ধারা ৬: অধীনস্থ মাদরাসার দায়িত্ব ও অধিকার

  1. দায়িত্ব: পরিষদের সিলেবাস অনুসরণ করা; সময়মতো কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় ছাত্র নিবন্ধন করা; মাসিক ও বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া; হিসাব স্বচ্ছ রাখা; শিক্ষক নিয়োগ ও বেতনের তথ্য পরিষদকে জানানো; পরিদর্শনে সহযোগিতা করা।
  2. অধিকার: কেন্দ্রীয় পরীক্ষা ও সনদ পাওয়া; সিলেবাস ও প্রশিক্ষণ-সুবিধা; শিক্ষকের বেতন নির্ধারণ ও বৃদ্ধিতে পরিষদের সহায়তা; সমস্যায় পরামর্শ ও সালিস।
  3. প্রতিটি মাদরাসা নিজ প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন পরিচালনায় স্বাধীন থাকবে, তবে এই গঠনতন্ত্র মেনে।

ধারা ৭: পরিষদের কাঠামো

পরিষদের কাঠামো নিম্নরূপ:

  1. চেয়ারম্যান
  2. মহাসচিব
  3. সেক্রেটারি ও সহকারী সেক্রেটারি
  4. কার্যনির্বাহী কমিটি
  5. মজলিসে ইলমিয়া (শূরা)
  6. সাধারণ পরিষদ
  7. জেলাভিত্তিক আঞ্চলিক কমিটি
  8. বিভাগসমূহ (ধারা ১৩)

ধারা ৮: চেয়ারম্যান

  1. জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুরের মুহতামিম পদাধিকারবলে পরিষদের চেয়ারম্যান হবেন। বর্তমান চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ ছালাহ উদ্দীন নানুপুরী।
  2. চেয়ারম্যান পরিষদের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল। তিনি সভায় সভাপতিত্ব করবেন, নীতিগত সিদ্ধান্তে নেতৃত্ব দেবেন এবং মাদরাসার অন্তর্ভুক্তি, সনদ ও গুরুত্বপূর্ণ নথিতে অনুমোদন দেবেন।
  3. চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে তাঁর মনোনীত দায়িত্বশীল সভা পরিচালনা করবেন।

ধারা ৯: মহাসচিব

  1. মহাসচিব পরিষদের প্রশাসনিক ও দৈনন্দিন কাজের প্রধান। বর্তমান মহাসচিব আল্লামা রফিক। দৈনন্দিন সব কাজ সেক্রেটারিের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়।
  2. তাঁর দায়িত্ব: সভা আহ্বান ও কার্যবিবরণী রক্ষা; বিভাগগুলোর সমন্বয়; মাদরাসার সাথে যোগাযোগ; চিঠি, রেজুলেশন ও সনদের নথি সংরক্ষণ; কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন।
  3. মহাসচিব চেয়ারম্যানের কাছে জবাবদিহি করবেন।

সেক্রেটারি ও সহকারী সেক্রেটারি

  1. পরিষদের সব কাজ বাস্তবে পরিচালনা ও বাস্তবায়ন করেন সেক্রেটারি। বর্তমান সেক্রেটারি মুফতি মাওলানা আবু বকর।
  2. তাঁকে সহায়তা করেন সহকারী সেক্রেটারি। বর্তমান সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আল আমিন সুলতান। তিনি বিভিন্ন কার্যক্রমের দৈনন্দিন সমন্বয় ও ডিজিটাল ব্যবস্থার তদারকি করেন।
  3. তাঁরা সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন, মাদরাসার আবেদন ও প্রতিবেদন যাচাইয়ের কাজ এগিয়ে নেন এবং সভার কার্যবিবরণী প্রস্তুত করেন।
  4. তাঁরা মহাসচিব ও চেয়ারম্যানের কাছে জবাবদিহি করবেন।

ধারা ১০: কার্যনির্বাহী কমিটি

  1. কার্যনির্বাহী কমিটি পরিষদের নিয়মিত কাজ পরিচালনা করবে। সদস্যসংখ্যা ও মেয়াদ পরিষদ নির্ধারণ করবে।
  2. কমিটি বছরে কমপক্ষে নির্ধারিত সংখ্যক সভা করবে (সংখ্যা পরিষদ নির্ধারণ করবে) এবং প্রতিটি সভার কার্যবিবরণী লিখে রাখবে।
  3. কমিটি বার্ষিক বাজেট, প্রতিবেদন ও নতুন নিয়ম অনুমোদন করবে।
  4. মাসিক বৈঠক: প্রতি মাসে একটি নিয়মিত বৈঠক হয়। এতে চেয়ারম্যান, মহাসচিব, সেক্রেটারি, কার্যনির্বাহী কমিটি ও সাধারণ পরিষদের দায়িত্বশীলরা বসে সেই মাসের কাজ, মাদরাসার প্রতিবেদন ও সামনের পরিকল্পনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন।
  5. বার্ষিক বৈঠক: বার্ষিক প্রতিবেদন, পরীক্ষা, হিসাব ও অডিটের জন্য বছরে আলাদা আলাদা বৈঠক হয়। প্রতিটি বৈঠকের কার্যবিবরণী লেখা থাকে।

ধারা ১১: সাধারণ পরিষদ

  1. সাধারণ পরিষদ পরিষদের সর্বোচ্চ পরামর্শ-সভা। প্রতিষ্ঠাকালে এর সদস্যসংখ্যা ছিল ৩৬ জন; বর্তমান সংখ্যা ও সদস্য-নির্বাচনের নিয়ম পরিষদ নির্ধারণ করবে।
  2. সাধারণ পরিষদ বছরে অন্তত একবার বসবে। এতে বার্ষিক প্রতিবেদন, হিসাব ও আগামী বছরের পরিকল্পনা পেশ করা হবে।
  3. গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রস্তাব এই সভায় আলোচিত হবে।

মজলিসে ইলমিয়া (শূরা)

  1. জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুরের মজলিসে ইলমিয়া বা শূরা-সদস্যরা পরিষদের কার্যনির্বাহী কমিটি হিসেবেও কাজ করেন। এঁরা পুরনো জমিরিয়া তা'লিম ও তায্‌কিয়া পরিষদের কার্যনির্বাহী কমিটির ধারাবাহিকতা।
  2. মজলিসে ইলমিয়া সিলেবাস, কোন কিতাব কোন স্তরে পড়ানো হবে, কোন মাদরাসায় কী ব্যবস্থা হবে এবং শিক্ষা-সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় বিস্তারিত আলোচনা করে সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দেন।
  3. মাদরাসার অন্তর্ভুক্তি, পরীক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে তাঁদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

ধারা ১২: জেলাভিত্তিক আঞ্চলিক কমিটি

  1. কেন্দ্রীয় পরিষদের অধীনে বিভিন্ন জেলায় আঞ্চলিক বোর্ড-কমিটি গঠন করা যাবে।
  2. আঞ্চলিক কমিটি জেলার অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে এবং তা'লিম-তারবিয়াতসহ সার্বিক বিষয়ে তদারকি করবে।
  3. আঞ্চলিক কমিটি পরিদর্শন-প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় পরিষদে পাঠাবে। কোনো মাদরাসার অন্তর্ভুক্তি বাতিল বা স্থগিতের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় পরিষদ নেবে।

ধারা ১৩: বিভাগসমূহ

পরিষদের কাজ নিম্নলিখিত বিভাগের মাধ্যমে চলবে। প্রয়োজনে নতুন বিভাগ যোগ করা যাবে।

  1. শিক্ষা ও সিলেবাস বিভাগ: পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, পাঠ্যবই নির্ধারণ, শিক্ষণ-মান উন্নয়ন।
  2. পরীক্ষা বিভাগ: কেন্দ্রীয় পরীক্ষা, প্রশ্ন, খাতা দেখা, ফলাফল ও সনদ।
  3. অডিট ও পরিদর্শন বিভাগ: মাসিক ও বার্ষিক প্রতিবেদন যাচাই, পরিদর্শন, অডিট।
  4. অর্থ ও হিসাব বিভাগ: ফি আদায়, খরচ, হাদিয়া ও আয়-ব্যয়ের হিসাব।
  5. শিক্ষক প্রশিক্ষণ বিভাগ: নূরানী ও অন্যান্য প্রশিক্ষণ, জোড় ও সম্মেলন।
  6. তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ: ওয়েবসাইট, ডিজিটাল রেকর্ড, তথ্য সুরক্ষা।

ধারা ১৪: অধীনস্থ মাদরাসার নেতৃত্ব

  1. প্রতিটি মাদরাসার প্রধান দায়িত্বে থাকবেন প্রধান মুহতামিম (সদরের মুহতামিম)।
  2. মাদরাসার দৈনন্দিন কাজ চালাতে সহকারী মুহতামিম বা ভারপ্রাপ্ত মুহতামিম থাকতে পারবেন। তাঁরা প্রধান মুহতামিমের অনুমতি ও নির্দেশনায় কাজ করবেন।
  3. দায়িত্ব বদল হলে (নতুন মুহতামিম, ভারপ্রাপ্ত নিয়োগ) পরিষদকে লিখিতভাবে জানাতে হবে এবং হস্তান্তরের নথি রাখতে হবে।
  4. প্রধান মুহতামিম ও তা'লীমাত-দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি পরিষদের পোর্টালে মাদরাসার লগইন ব্যবহার করবেন।

ধারা ১৫: শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ ও বেতন

  1. শিক্ষক নিয়োগে যোগ্যতা, চরিত্র ও পূর্ব-অভিজ্ঞতা যাচাই করতে হবে এবং লিখিত নিয়োগপত্র দিতে হবে।
  2. নূরানী বিভাগে শুধু নূরানী-প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক পড়াবেন।
  3. বেতন নির্ধারণ ও বৃদ্ধির জন্য মাদরাসা পরিষদের পোর্টালে আবেদন করবে। পরিষদ মাদরাসার আয়, ছাত্রসংখ্যা ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দেবে।
  4. শিক্ষকের বেতন নিয়মিত পরিশোধ করতে হবে এবং হিসাবে লিখে রাখতে হবে।
  5. অন্যায়ভাবে শিক্ষক বরখাস্ত করা যাবে না। বরখাস্তের কারণ লিখিত থাকতে হবে এবং প্রয়োজনে পরিষদকে জানাতে হবে।

ধারা ১৬: শিক্ষা ও সিলেবাস

  1. পরিষদের সিলেবাস ৬ স্তরের, ১৫ বছরের: ইবতিদাইয়্যাহ (৫ বছর), মুতাওয়াসসিতাহ (৩), ছানাবিয়্যাহ আম্মাহ (২), ছানাবিয়্যাহ খাসসাহ (২), ফযীলাহ (২) ও তাকমীল (১)।
  2. সিলেবাসে কোনো কোর্স ফি নেই।
  3. সিলেবাস পরিবর্তন বা নতুন কোর্স যোগ হলে শিক্ষা ও সিলেবাস বিভাগের প্রস্তাবে কার্যনির্বাহী কমিটি অনুমোদন দেবে।
  4. মাদরাসা শিক্ষার্থীদের হাতের লেখা, পড়া, হাজিরা ও আচরণের উন্নতির জন্য শিক্ষকদের সাপ্তাহিক পরামর্শ-সভা করবে।
  5. প্রতিটি মাদরাসায় দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি ও গণিত পড়ানো হয়। কোনো ছাত্র স্কুল বা কলেজের পরীক্ষায় অংশ নিতে চাইলে মাদরাসা সেই সুযোগ করে দেবে, তবে মূল দ্বীনি পড়াশোনার যেন ক্ষতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  6. ছাত্রদের মান অনুযায়ী পড়াশোনা করানো হবে। যে ছাত্র ভালো পড়তে পারে তার পড়া আরও উন্নত করার ব্যবস্থা থাকবে। যে ছাত্র কম পড়তে পারে তাকে ধীরে ধীরে ভালোর দিকে নিয়ে যেতে ব্যবহারিক জীবনের উদাহরণ দিয়ে বিশেষ যত্ন নেওয়া হবে।

ধারা ১৭: কেন্দ্রীয় পরীক্ষা, ফলাফল ও সনদ

  1. পরিষদ প্রতি বছর কেন্দ্রীয় পরীক্ষা নেবে। পরীক্ষার তারিখ ও নিয়ম নোটিশে জানানো হবে।
  2. পরীক্ষার মূল ভিত্তি সাতটি বিষয় অর্থাৎ মাদরাসায় যতগুলো কিতাব পড়ানো হয়, প্রতিটি কিতাবের বার্ষিক পরীক্ষা পরিষদের অধীনে হবে। যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে কোনো কোনো মাদরাসায় প্রয়োজনে দুটি বা তিনটি বিষয়ের পরীক্ষাও নেওয়া হতে পারে।
  3. প্রশ্ন তৈরি, পরীক্ষা পরিচালনা ও খাতা দেখা উপযুক্ত উস্তাদ ও যোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে করানো হবে এবং যাচাই-বাছাই করা হবে।
  4. মাদরাসা নিজেই পোর্টালে ছাত্র নিবন্ধন করবে। প্রতিটি ছাত্র একটি স্থায়ী ছাত্র আইডি (SID) পাবে।
  5. পরীক্ষার ফি ও বিলম্ব-জরিমানার নিয়ম পরিষদ প্রতি বছর নির্ধারণ করবে।
  6. প্রতিটি বিষয়ে পাস নম্বর ৩৩। ফলাফল মুমতায, জায়্যিদ জিদ্দান, জায়্যিদ, মাকবুল ও রাসিব এই স্তরে প্রকাশিত হবে। মেধা তালিকায় শীর্ষ স্থানগুলো ঘোষণা করা হবে; হিফজ বিভাগের মেধা তালিকা আলাদা হবে।
  7. ফলাফল ওয়েবসাইটে প্রকাশ হবে। ছাত্রের নিজের ফলাফল দেখতে রেজিস্ট্রেশন নম্বর বা ছাত্র আইডি (SID)র সাথে জন্ম তারিখ লাগবে।
  8. সনদে পরিষদের প্রতীক, সিরিয়াল ও কিউআর কোড থাকবে। সনদ ওয়েবসাইটে যাচাই করা যাবে।

ধারা ১৮: অডিট ও পরিদর্শন

  1. প্রতিটি মাদরাসা প্রতি মাসে আয়-ব্যয়, শিক্ষক-ছাত্র সংখ্যা ও পড়াশোনার অগ্রগতির সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন পরিষদে জমা দেবে।
  2. প্রতি বছর বার্ষিক অডিট হবে। অডিটে আয়-ব্যয়ের খাতা, রসিদ-ভাউচার, তহবিলের পৃথকীকরণ ও বেতনের হিসাব যাচাই করা হবে।
  3. পরিদর্শক মাদরাসা পরিদর্শন করে পড়াশোনা, শৃঙ্খলা, শিশু নিরাপত্তা ও পরিবেশের অবস্থা লিখিত প্রতিবেদনে জানাবেন।
  4. যেখানে ত্রুটি পাওয়া যাবে, পরিষদ সংশোধনের সময় দিয়ে লিখিত নির্দেশনা দেবে।

ধারা ১৯: আর্থিক ব্যবস্থাপনা

  1. পরিষদের আয়ের উৎস: পরীক্ষার ফি, অনুদান, প্রকাশনা ও অন্যান্য বৈধ উৎস।
  2. যাকাত, সদাকা, চাঁদা ও সাধারণ আয় আলাদা তহবিলে রাখতে হবে এবং শরীয়তসম্মতভাবে ব্যয় করতে হবে। ফিকহী প্রশ্নে নির্ভরযোগ্য মুফতী সাহেবের পরামর্শ নেওয়া হবে।
  3. প্রতিটি আয়ের জন্য রসিদ এবং প্রতিটি ব্যয়ের জন্য মেমো-ভাউচার থাকবে।
  4. বার্ষিক আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন কার্যনির্বাহী কমিটিতে অনুমোদিত হবে।
  5. পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজের হাদিয়া নির্ধারিত নিয়মে হিসাব করে দেওয়া হবে।

ধারা ২০: শৃঙ্খলা এবং অন্তর্ভুক্তি বাতিল বা স্থগিত

  1. গঠনতন্ত্র বা পরিষদের নিয়ম ভঙ্গ করলে প্রথমে সতর্কতা ও সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে।
  2. গুরুতর অনিয়মে (যেমন তহবিল আত্মসাৎ, ছাত্রদের প্রতি নির্যাতন, মিথ্যা তথ্য, পরিদর্শনে বাধা) কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে অন্তর্ভুক্তি স্থগিত বা বাতিল করা যাবে।
  3. বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় পরিষদ নেবে এবং তা লিখিতভাবে জানাবে। সংশ্লিষ্ট মাদরাসা আপিলের সুযোগ পাবে।
  4. পরিষদের কোনো সদস্য বা দায়িত্বশীল নিয়ম ভঙ্গ করলে কার্যনির্বাহী কমিটি ব্যবস্থা নেবে।

ধারা ২১: সভা, কোরাম ও সিদ্ধান্ত

  1. প্রতিটি সভার নোটিশ আগে দিতে হবে এবং কার্যবিবরণী লিখে সংরক্ষণ করতে হবে।
  2. সভার কোরাম ও ভোটের নিয়ম পরিষদ নির্ধারণ করবে। যথাসম্ভব পরামর্শের ভিত্তিতে ঐকমত্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
  3. সিদ্ধান্ত লিখিত রেজুলেশন আকারে স্মারক নম্বরসহ সংরক্ষিত হবে।

ধারা ২২: ডিজিটাল ব্যবস্থা ও তথ্য সুরক্ষা

  1. পরিষদ ছাত্র, শিক্ষক ও মাদরাসার তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করবে এবং শুধু প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবে।
  2. ব্যক্তিগত তথ্য (জন্ম তারিখ, মোবাইল, জাতীয় পরিচয়পত্র) শুধু অনুমোদিত দায়িত্বশীলরা দেখবেন। জনসমক্ষে ছাত্রের ফলাফল দেখতে জন্ম তারিখ লাগবে।
  3. দায়িত্বশীল অ্যাকাউন্টে অথেন্টিকেটর অ্যাপ দিয়ে দ্বিতীয় স্তরের যাচাই বাধ্যতামূলক।
  4. কম্পিউটার-সহায়ক লেখা (এআই) ব্যবহার করা গেলেও যেকোনো চিঠি, রেজুলেশন বা সনদ ছাপার আগে দায়িত্বশীল ব্যক্তি নিজে যাচাই করে অনুমোদন দেবেন।

ধারা ২৩: সংশোধনী ও ব্যাখ্যা

  1. কার্যনির্বাহী কমিটির প্রস্তাব এবং সাধারণ পরিষদের অনুমোদনে গঠনতন্ত্র সংশোধন করা যাবে। অনুমোদনের নিয়ম পরিষদ নির্ধারণ করবে।
  2. গঠনতন্ত্রের কোনো ধারার ব্যাখ্যা নিয়ে মতভেদ হলে চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে, তবে তা পরবর্তী সভায় অবহিত করতে হবে।

ধারা ২৪: বিবিধ

  1. এই গঠনতন্ত্রে উল্লেখ নেই এমন বিষয়ে কার্যনির্বাহী কমিটি শরীয়ত ও দেশের প্রযোজ্য আইন বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।
  2. পরিষদ কোনো অবস্থায় শরীয়তবিরোধী কাজে জড়াবে না।
  3. এই গঠনতন্ত্র অনুমোদনের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

সর্বশেষ হালনাগাদ: ৬ নভেম্বর ২০২৬