পরিষদের লোগোজমিরিয়া তা'লিম ও তায্‌কিয়া পরিষদ বাংলাদেশঘরে ঘরে আলেম ও মুত্তাকী বান্দা, উন্নত হোক দেশের শিক্ষা

বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত হবেন যেভাবে

৬ নভেম্বর ২০২৬ · ৫ মিনিটে পড়া · জমিরিয়া তা'লিম ও তায্‌কিয়া পরিষদ

জমিরিয়া তা'লিম ও তায্‌কিয়া পরিষদে অন্তর্ভুক্ত হতে হলে অনলাইনে আবেদন করে ফরম প্রিন্ট করুন, পীর সাহেবের স্বাক্ষর নিয়ে জমা দিন, তারপর বোর্ডের পর্যালোচনা ও পরিদর্শনের পালা। অনুমোদন হলে মাদরাসা পায় ৪ সংখ্যার একটি মাদরাসা আইডি এবং লগইন। অন্তর্ভুক্তির জন্য কোনো ফি দিতে হয় না। আবেদন শুরু হয় অন্তর্ভুক্তির আবেদন পাতা থেকে।

আবেদনের আগে কী প্রস্তুত রাখবেন?

আবেদনের আগে মাদরাসার মৌলিক তথ্য গুছিয়ে রাখলে প্রক্রিয়া সহজ হয়। সাধারণত যা লাগে:

  • মাদরাসার নাম, ঠিকানা ও প্রতিষ্ঠার সাল;
  • মুহতামিমের নাম ও একটি সচল মোবাইল নম্বর, যাতে এসএমএসে যাচাই করা যাবে;
  • ছাত্র ও শিক্ষকের মোটামুটি সংখ্যা এবং পড়ানো স্তরগুলোর তথ্য;
  • মাদরাসার কাগজপত্র ও পরিচালনা কাঠামোর তথ্য।

কোন কাগজ ঠিক কী লাগবে, তা সময়ে সময়ে বদলাতে পারে। তাই সর্বশেষ চাহিদা জানতে অন্তর্ভুক্তির পাতা ও পরিষদের নোটিশ দেখুন। আপনার মাদরাসার নথি গুছাতে সাহায্য করবে প্রতিটি মাদরাসার কাগজপত্র লেখাটি।

অনলাইনে আবেদন কীভাবে করবেন?

আবেদন করতে আবেদন পাতায় গিয়ে এসএমএসে যাচাই করা মোবাইল নম্বর দিয়ে শুরু করতে হয়। যাচাইয়ের উদ্দেশ্য, যেন বোর্ড আপনার সঙ্গে নির্ভুলভাবে যোগাযোগ করতে পারে এবং অন্য কেউ আপনার নামে আবেদন করতে না পারে।

ধাপগুলো এমন:

  1. আবেদন পাতায় মোবাইল নম্বর দিন এবং এসএমএসে আসা কোড দিয়ে যাচাই করুন।
  2. মাদরাসার তথ্য সতর্কভাবে পূরণ করুন; নামের বানান ও ঠিকানা নির্ভুল হওয়া জরুরি।
  3. তথ্য জমা দিয়ে আবেদন ফরম প্রিন্ট করুন।
  4. প্রিন্ট করা ফরমে মাদরাসার পীর সাহেবের স্বাক্ষর নিন।
  5. স্বাক্ষরিত ফরম বোর্ডের নির্দেশিত পদ্ধতিতে জমা দিন।

জমা দেওয়ার সঠিক ঠিকানা বা মাধ্যম পরিষদের নির্দেশনায় থাকে, সেটি মিলিয়ে নিন।

আবেদনের পর বোর্ড কী করে?

আবেদন পাওয়ার পর বোর্ড তা পর্যালোচনা করে এবং প্রয়োজনে মাদরাসা পরিদর্শন করে। পরিদর্শনে সাধারণত মাদরাসার শিক্ষা, চরিত্র গঠন ও ব্যবস্থাপনার বাস্তব অবস্থা দেখা হয়। ঠিক কোন কোন বিষয় যাচাই হয়, তার বিস্তারিত তালিকা বোর্ডের নোটিশে থাকে। আপনি তদারকি ও পরিদর্শনের লেখা-য় সাধারণ ধারণা পাবেন।

পরিদর্শনের সময় মাদরাসার বাস্তব চিত্র যেমন, তেমনভাবেই দেখাতে দিন। কোনো ঘাটতি থাকলে তা লুকানোর চেয়ে সংশোধনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা অনেক বেশি কার্যকর।

অনুমোদন পেলে কী পাবেন?

অনুমোদন পেলে মাদরাসা পায় একটি ৪ সংখ্যার মাদরাসা আইডি এবং দুটি লগইন: একটি মুহতামিমের জন্য, আরেকটি তা'লিমাতের (শিক্ষা বিভাগের) জন্য। এই লগইন দিয়ে মাদরাসা ছাত্র নিবন্ধন, ফি জমা, প্রবেশপত্র সংগ্রহসহ বোর্ডের পোর্টালের কাজ করে।

আগের ইলহাক নম্বর থাকলে সেগুলো বাতিল। নতুন মাদরাসা আইডিই এখন থেকে প্রতিষ্ঠানের পরিচয়। তাই আইডি ও পাসওয়ার্ড নিরাপদে রাখুন এবং অন্যকে দেবেন না।

অন্তর্ভুক্তির পর কী কী দায়িত্ব আসে?

অন্তর্ভুক্তি মানে শুধু সনদ পাওয়ার সুযোগ নয়; কিছু দায়িত্বও। যেমন, প্রতি ছাত্রের নিবন্ধন সময়মতো করা, নির্ধারিত পরীক্ষার ফি জমা দেওয়া, হিসাবের মাসিক ও বার্ষিক অডিটে সহযোগিতা করা, শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ বা বৃদ্ধিতে বোর্ডের অনুমোদন নেওয়া, এবং নূরানী শিক্ষণ প্রশিক্ষিত শিক্ষকের মাধ্যমে চালানো। এসব বিষয়ের পুরো বিবরণ বোর্ডের নিয়ম ও নোটিশে পাবেন।

সাধারণ ভুলগুলো কী?

  • ভুল বা অচল মোবাইল নম্বর দেওয়া, ফলে যোগাযোগ হয় না।
  • প্রিন্ট করা ফরমে স্বাক্ষর বাদ পড়া।
  • নাম বা ঠিকানায় বানান ভুল, যা পরে সংশোধন করা ঝামেলার।
  • লগইন তথ্য অনিরাপদে রাখা।

শুরু করবেন কীভাবে?

অন্তর্ভুক্তির আবেদনের আগে প্রস্তুতি নিলে প্রক্রিয়া মসৃণ হয়। প্রথমে কমিটির সিদ্ধান্ত নিন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য গুছিয়ে রাখুন।

  1. মাদরাসার নাম, ঠিকানা, মুহতামিম ও কমিটির তথ্য প্রস্তুত রাখুন।
  2. শিক্ষক ও ছাত্রের বর্তমান তথ্য সঠিকভাবে লিখে রাখুন।
  3. /affiliation/apply পাতায় গিয়ে এসএমএস দিয়ে যাচাই করা মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে আবেদন করুন।
  4. ফর্ম প্রিন্ট করে পীর সাহেবের স্বাক্ষর নিন।
  5. পরিষদ আবেদন পর্যালোচনা ও পরিদর্শন করবে; অনুমোদন পেলে মাদরাসা চার অঙ্কের মাদরাসা আইডি ও লগইন পাবে।

একটি সাধারণ দৃশ্য

একটি মাদরাসার মুহতামিম আবেদনের জন্য সব তথ্য একটি খাতায় গুছিয়ে রাখলেন। আবেদনের সময় মোবাইল নম্বর যাচাই করার কোড তিনি নিজের ফোনেই পেলেন এবং ফর্ম প্রিন্ট করে পীর সাহেবের কাছে গিয়ে স্বাক্ষর নিলেন। পরিদর্শনের দিন হিসাবের খাতা, ছাত্রের তালিকা ও শিক্ষকদের তথ্য হাতের কাছে থাকায় কাজ সহজ হলো। প্রস্তুতি থাকলে পরিদর্শনের ভয় কমে যায়।

সাধারণ ভুল ও সমাধান

ভুলসমাধান
ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়াজমার আগে দুইবার মিলিয়ে নিন
অন্য কারও মোবাইল নম্বর ব্যবহারমাদরাসার দায়িত্বশীলের নম্বর দিন
স্বাক্ষর ছাড়া ফর্ম জমাফর্মে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর নিশ্চিত করুন
পরিদর্শনের কাগজপত্র গুছিয়ে না রাখাআগে থেকেই ফাইল সাজিয়ে রাখুন
মধ্যস্থতাকারীকে ফি দেওয়াঅন্তর্ভুক্তিতে কোনো ফি নেই

পরিদর্শনের আগে চেকলিস্ট

  • হিসাবের খাতা হালনাগাদ আছে কি?
  • ছাত্র ও শিক্ষকের তালিকা সঠিক কি?
  • পাঠদানের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন কি?
  • নিরাপত্তা ও শিশু সুরক্ষার ব্যবস্থা আছে কি?

পরিদর্শনে কী কী দেখা হয় জানতে পরিদর্শনে আমরা কী দেখি এবং মানদণ্ডের জন্য অন্তর্ভুক্তির মানদণ্ড চেকলিস্ট লেখা দুটি পড়ুন।

কুরআন ও হাদীসের আলোকে

এই বিষয়ে কুরআন ও হাদীসের একটি করে নির্দেশনা দেখা যায়।

۞ إِنَّ ٱللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤَدُّوا۟ ٱلْأَمَٰنَٰتِ إِلَىٰٓ أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُم بَيْنَ ٱلنَّاسِ أَن تَحْكُمُوا۟ بِٱلْعَدْلِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ نِعِمَّا يَعِظُكُم بِهِۦٓ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ سَمِيعًۢا بَصِيرًۭا

নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদিগকে নির্দেশ দেন যে, তোমরা যেন প্রাপ্য আমানতসমূহ প্রাপকদের নিকট পৌছে দাও। আর যখন তোমরা মানুষের কোন বিচার-মীমাংসা করতে আরম্ভ কর, তখন মীমাংসা কর ন্যায় ভিত্তিক। আল্লাহ তোমাদিগকে সদুপদেশ দান করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ শ্রবণকারী, দর্শনকারী।

সূরা নিসা, আয়াত ৪:৫৮

আমানত যোগ্য হাতে তুলে দেওয়া এবং ন্যায়ের সাথে বিচার করার এই নির্দেশ পরীক্ষা, মূল্যায়ন ও সনদ প্রদানে সততার ভিত্তি।

الدِّينُ النَّصِيحَةُ قُلْنَا لِمَنْ قَالَ لِلَّهِ وَلِكِتَابِهِ وَلِرَسُولِهِ وَلأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ وَعَامَّتِهِمْ

ভাবার্থ: দ্বীন হলো কল্যাণকামনা: আল্লাহ, তাঁর কিতাব, রাসূল, মুসলিম নেতৃত্ব ও সাধারণ মুসলিমের জন্য।

সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৫

দ্বীন হলো কল্যাণকামনা। বোর্ড, মাদরাসা ও শিক্ষক একে অপরের ভালো চাইলে নিয়ম ও পরামর্শ দুটোই সহজে মানা যায়।

সংক্ষেপে করণীয়

  • আবেদনের আগে মাদরাসার মৌলিক তথ্য ও কাগজপত্র গুছিয়ে নিন।
  • সচল মোবাইল নম্বর দিয়ে অনলাইনে আবেদন শুরু করুন।
  • ফরম প্রিন্ট করে পীর সাহেবের স্বাক্ষর নিন এবং নির্দেশনা অনুযায়ী জমা দিন।
  • পরিদর্শনের জন্য প্রস্তুত থাকুন এবং বাস্তব চিত্র দেখান।
  • মাদরাসা আইডি ও লগইন সংরক্ষণ করুন, প্রকাশ করবেন না।

প্রশ্নোত্তর

অন্তর্ভুক্তির জন্য কি ফি দিতে হয়?

না, অন্তর্ভুক্তিতে কোনো ফি নেই। তবে ছাত্রদের পরীক্ষার ফি আলাদা বিষয় এবং তা নির্ধারিত নিয়মে জমা দিতে হয়।

মাদরাসা আইডি কত সংখ্যার হয়?

অনুমোদনের পর মাদরাসা ৪ সংখ্যার একটি আইডি পায়। ছাত্রের স্থায়ী আইডি আলাদা, যার ধরন "NNNN-NNNN"।

পুরনো ইলহাক নম্বর কি চলবে?

না, পুরনো ইলহাক নম্বর বাতিল। নতুন মাদরাসা আইডিই ব্যবহার করতে হবে।

আবেদনের পর কতদিনে ফল জানা যায়?

সময় নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। পর্যালোচনা ও পরিদর্শনের অগ্রগতির ওপর তা নির্ভর করে। যোগাযোগের জন্য যোগাযোগ পাতা দেখুন।

এই লেখা পরিষদের সম্পাদনা পরিষদের পক্ষ থেকে সাধারণ দিকনির্দেশনার জন্য। ফিকহী বা আইনগত বিষয়ে নির্ভরযোগ্য আলেম বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

আরও পড়ুন

#অন্তর্ভুক্তি#মাদরাসা আইডি#অনলাইন আবেদন#বোর্ড

আরও পড়ুন

বোর্ড ও পরীক্ষা

বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত হলে কী কী উপকার

বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত হলে মাদরাসা, শিক্ষক, ছাত্র ও অভিভাবক কী কী সুবিধা পান এবং কোন দায়িত্বগুলো মানতে হয়, তার বাস্তবসম্মত আলোচনা।

৬ মিনিটে পড়া · ৬ নভেম্বর ২০২৬

বোর্ড ও পরীক্ষা

শিক্ষা বোর্ড কী ও কেন দরকার

শিক্ষা বোর্ড কী, মাদরাসার জন্য কেন তা দরকার এবং একটি বোর্ড সাধারণত কী কী কাজ করে, তার সহজ ব্যাখ্যা এই লেখায় পাবেন।

৫ মিনিটে পড়া · ৬ নভেম্বর ২০২৬

বোর্ড ও পরীক্ষা

তদারকি ও পরিদর্শন: কী দেখা হয়

বোর্ডের তদারকি ও পরিদর্শন সাধারণত কোন কোন বিষয় ঘিরে হয়, মাদরাসা কীভাবে প্রস্তুত থাকবে এবং পরিদর্শনকে সহায়তা হিসেবে কীভাবে নেবেন।

৬ মিনিটে পড়া · ৬ নভেম্বর ২০২৬

মাদরাসা পরিচালনা

প্রতিটি মাদরাসার যেসব কাগজপত্র থাকা দরকার

মাদরাসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের একটি ব্যবহারিক তালিকা: মালিকানা, কমিটি, হিসাব, শিক্ষক-ছাত্র ও বোর্ডের কাগজ কীভাবে গুছিয়ে রাখবেন।

৫ মিনিটে পড়া · ৬ নভেম্বর ২০২৬