জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুর: ইতিহাসের সারকথা
৬ নভেম্বর ২০২৬ · ৬ মিনিটে পড়া · জমিরিয়া তা'লিম ও তায্কিয়া পরিষদ
জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুর চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানার নানুপুর গ্রামে অবস্থিত একটি দ্বীনী প্রতিষ্ঠান। এটি ২৯ শাওয়াল ১৩৭৭ হিজরী মোতাবেক ১৯ মে ১৯৫৮ ঈসায়ী তারিখে প্রতিষ্ঠিত। এই জামিয়াই জমিরিয়া তা'লিম ও তায্কিয়া পরিষদ বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়। এ লেখায় জামিয়ার প্রতিষ্ঠা ও মুহতামিমদের ধারা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো, কেবল পরিষদের নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে।
জামিয়ার অবস্থান ও প্রতিষ্ঠা
জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুর বন্দরনগরী চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত ফটিকছড়ি থানার নানুপুর গ্রামে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠার তারিখ ২৯ শাওয়াল ১৩৭৭ হিজরী, যা ১৯৫৮ সালের ১৯ মে-এর সমান। এর ডাকঘরের ঠিকানা ওবাইদিয়া-৪৩৫১, নানুপুর, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম।
জামিয়ার মাসলাক হিসেবে বলা হয়েছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত, হানাফী ও দেওবন্দী।
মুহতামিমদের ধারা কেমন?
জামিয়ার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী মুহতামিমদের ধারা এরূপ:
- প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম: শাহ্ আমীরুদ্দীন (রহ.), ১৩৭৭ থেকে ১৩৮০ হিজরী।
- দ্বিতীয় মুহতামিম: আল্লামা শাহ্ সুলতান আহমদ নানুপুরী (রহ.), ১৩৮০ থেকে ১৪০৫ হিজরী।
- তৃতীয় মুহতামিম: আল্লামা শাহ্ জমীর উদ্দীন নানুপুরী (রহ.), ১৪০৬ থেকে ১৪৩২ হিজরী। তিনি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা (২০১০ ঈসায়ী)।
- বর্তমান মুহতামিম: আল্লামা শাহ্ ছালাহ্ উদ্দীন নানুপুরী (দামাত বারাকাতুহুম), যিনি পরিষদের চেয়ারম্যানও।
এই ধারাবাহিকতা দেখায়, জামিয়ার নেতৃত্ব একটি নির্দিষ্ট ধারায় চলে এসেছে এবং পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান দুজনই এই জামিয়ার মুহতামিম। মুহতামিমের দায়িত্ব নিয়ে সাধারণ ধারণা পেতে পড়ুন মুহতামিম, সহকারী মুহতামিম ও ভারপ্রাপ্ত মুহতামিমের দায়িত্ব।
জামিয়া ও জমিরিয়া পরিষদের সম্পর্ক কী?
জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুর জমিরিয়া তা'লিম ও তায্কিয়া পরিষদের প্রধান কার্যালয়। পরিষদ গঠিত হয় ২০১০ সালের ৮ জুলাই, আল্লামা শাহ জমির উদ্দীন নানুপুরী (রহ.)-এর হাতে। পরিষদের চেয়ারম্যান এই জামিয়ার মুহতামিম, আর সেক্রেটারি জেনারেল আল্লামা রফিক হলেন জামিয়ার শিক্ষা সচিব।
জামিয়ার পরিচিত বিভাগগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- জমিরিয়া তা'লিম ও তাযকিয়া পরিষদ;
- জমিরিয়া দাওয়াত সেন্টার বাংলাদেশ;
- নূরানী মুয়াল্লিম প্রশিক্ষণ বিভাগ;
- ওবাইদিয়া কমপ্লেক্স।
পরিষদ কী করে এবং কীভাবে কাজ করে, সে বিষয়ে পড়তে পারেন শিক্ষা বোর্ড কী ও কেন দরকার লেখায়।
পরিষদের কাজে জামিয়ার ভূমিকা কী?
প্রধান কার্যালয় হিসেবে জামিয়া পরিষদের কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় পরীক্ষা পরিচালনা, ফলাফল প্রকাশ, সিলেবাস প্রণয়ন, অধীনস্থ মাদরাসার তদারকি ও অডিট, শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন নির্ধারণ ও বৃদ্ধি এবং নূরানী শিক্ষক প্রশিক্ষণ, এসব কার্যক্রম পরিষদের পরিচিত কাজের অংশ। জেলাভিত্তিক আঞ্চলিক কমিটি এই কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত থেকে স্থানীয় পর্যায়ে খোঁজখবর রাখে। এ বিষয়ে দেখুন জেলাভিত্তিক আঞ্চলিক কমিটির ভূমিকা।
জামিয়া সম্পর্কে আরও জানতে কী করবেন?
এই লেখা কেবল সারসংক্ষেপ। জামিয়ার ইতিহাসের গভীরতর বিবরণ, শিক্ষা কার্যক্রম, বর্তমান ছাত্র-শিক্ষক সংখ্যা এবং অন্যান্য তথ্যের জন্য জামিয়ার নিজস্ব প্রকাশনা ও অফিসিয়াল সূত্রের সাহায্য নিন। পরিষদের পরিচিতি পাবেন আমাদের সম্পর্কে পাতায়, আর যোগাযোগের মাধ্যম আছে যোগাযোগ পাতায়।
এই ইতিহাস থেকে আমরা কী শিখতে পারি?
কোনো প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস শুধু অতীত স্মরণ করার জন্য নয়, ভবিষ্যতের পথ চেনার জন্য। আমরা শিখতে পারি যে ইখলাস, ধৈর্য ও আলেমদের পরামর্শ একটি প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখে। পরিষদের গঠন ও দিকনির্দেশনার পেছনে যে মূল্যবোধ আছে, তা বুঝতে পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও লক্ষ্য লেখাটি পড়ুন।
ইতিহাস জানার সহজ উপায়
- নিজের এলাকার প্রবীণ আলেম ও প্রাক্তন ছাত্রদের কাছ থেকে শুনুন।
- মাদরাসার পুরনো কাগজ, ছবি ও সিদ্ধান্তের খাতা সংরক্ষণ করুন।
- নতুন প্রজন্মের জন্য সহজ ভাষায় সংক্ষিপ্ত ইতিহাস লিখে রাখুন।
- তথ্য লেখার আগে অন্তত দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে মিলিয়ে নিন।
- যা নিশ্চিত নয়, তা অনুমানে না লিখে "জানা যায়নি" লিখুন।
সাধারণ ভুল ও সমাধান
| ভুল | সমাধান |
|---|---|
| শোনা কথাকে ইতিহাস হিসেবে লেখা | সূত্র যাচাই করুন |
| গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অবদান ভুলে যাওয়া | তালিকা করে সংরক্ষণ করুন |
| ইতিহাসকে অতিরঞ্জিত করা | সত্য ও সংযত ভাষা ব্যবহার করুন |
| কাগজপত্র হারিয়ে ফেলা | ডিজিটাল কপি রাখুন |
নিজের প্রতিষ্ঠানের নথি গুছিয়ে রাখতে প্রতিটি মাদরাসার যেসব কাগজপত্র থাকা দরকার দেখতে পারেন।
নতুন প্রজন্মকে কীভাবে ইতিহাস জানাবেন?
ইতিহাস শিক্ষার ক্লাসের বাইরে গল্পের আকারেও বলা যায়। সাপ্তাহিক মজলিসে প্রবীণ কারও কাছ থেকে সংক্ষেপে প্রতিষ্ঠানের পথচলার কথা শোনানো যায়। ছাত্রদের উৎসাহ দিন প্রশ্ন করতে। তবে অতিভক্তি বা অতিশয়োক্তি এড়িয়ে চলুন, কারণ সংযত ও সত্যনিষ্ঠ বর্ণনাই আস্থা তৈরি করে।
পাঠকের জন্য পরামর্শ
এই লেখা ইতিহাসের সারকথা মাত্র। বিস্তারিত জানতে জামিয়ার দায়িত্বশীলদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন বা যোগাযোগ পৃষ্ঠা দেখুন। কোনো তথ্য নিয়ে সন্দেহ থাকলে নিশ্চিত না হয়ে অন্যের কাছে বলবেন না। সংযম ও সত্যনিষ্ঠা ইতিহাসচর্চার প্রথম শর্ত।
নতুন কোনো মাদরাসা যদি নিজের ইতিহাস লিখতে চায়, তারা একটি সরল কাঠামো ব্যবহার করতে পারে: কার উদ্যোগে শুরু, শুরুর পরিবেশ, মাঝের চ্যালেঞ্জ, বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন। প্রতিটি অংশ সংক্ষেপে ও সৎভাবে লিখুন।
নিজের এলাকার মাদরাসার ইতিহাস লিখে রাখার উপকার
ইতিহাস না লিখলে কয়েক প্রজন্ম পরে মূল ঘটনা ঝাপসা হয়ে যায়। একটি খাতায় বা ফাইলে বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, দায়িত্বশীলদের নাম ও সিদ্ধান্তের সংক্ষিপ্ত নোট রাখলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তা অমূল্য সম্পদ হয়।
পড়া ও জানার পরবর্তী ধাপ
জামিয়ার সাথে পরিষদের সম্পর্ক বুঝতে চাইলে শিক্ষা বোর্ড কী পড়ুন এবং পরিষদের পরিচিতি দেখুন আমাদের সম্পর্কে পৃষ্ঠায়। প্রশ্ন থাকলে সৌজন্যের সাথে যোগাযোগ করুন। প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস জানা মানে তার আমানত বোঝা এবং তা রক্ষার দায়িত্ব অনুভব করা।
কুরআন ও হাদীসের আলোকে
এই বিষয়ে কুরআন ও হাদীসের একটি করে নির্দেশনা দেখা যায়।
۞ إِنَّ ٱللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤَدُّوا۟ ٱلْأَمَٰنَٰتِ إِلَىٰٓ أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُم بَيْنَ ٱلنَّاسِ أَن تَحْكُمُوا۟ بِٱلْعَدْلِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ نِعِمَّا يَعِظُكُم بِهِۦٓ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ سَمِيعًۢا بَصِيرًۭا
নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদিগকে নির্দেশ দেন যে, তোমরা যেন প্রাপ্য আমানতসমূহ প্রাপকদের নিকট পৌছে দাও। আর যখন তোমরা মানুষের কোন বিচার-মীমাংসা করতে আরম্ভ কর, তখন মীমাংসা কর ন্যায় ভিত্তিক। আল্লাহ তোমাদিগকে সদুপদেশ দান করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ শ্রবণকারী, দর্শনকারী।
সূরা নিসা, আয়াত ৪:৫৮আমানত যোগ্য হাতে তুলে দেওয়া এবং ন্যায়ের সাথে বিচার করার এই নির্দেশ পরীক্ষা, মূল্যায়ন ও সনদ প্রদানে সততার ভিত্তি।
الدِّينُ النَّصِيحَةُ قُلْنَا لِمَنْ قَالَ لِلَّهِ وَلِكِتَابِهِ وَلِرَسُولِهِ وَلأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ وَعَامَّتِهِمْ
ভাবার্থ: দ্বীন হলো কল্যাণকামনা: আল্লাহ, তাঁর কিতাব, রাসূল, মুসলিম নেতৃত্ব ও সাধারণ মুসলিমের জন্য।
সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৫দ্বীন হলো কল্যাণকামনা। বোর্ড, মাদরাসা ও শিক্ষক একে অপরের ভালো চাইলে নিয়ম ও পরামর্শ দুটোই সহজে মানা যায়।
সংক্ষেপে করণীয়
- জামিয়ার প্রতিষ্ঠা, মুহতামিমের ধারা ও পরিষদের সঙ্গে সম্পর্ক জেনে রাখুন।
- বিস্তারিত জানতে জামিয়ার অফিসিয়াল সূত্র ও প্রকাশনা দেখুন।
- পরিষদে অন্তর্ভুক্ত হতে চাইলে অন্তর্ভুক্তির পাতা থেকে ধাপগুলো দেখুন।
- নতুন তথ্য বা ঘোষণার জন্য পরিষদের নোটিশ অনুসরণ করুন।
প্রশ্নোত্তর
জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুর কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
২৯ শাওয়াল ১৩৭৭ হিজরী মোতাবেক ১৯ মে ১৯৫৮ ঈসায়ী তারিখে।
জামিয়াটি কোথায় অবস্থিত?
চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানার নানুপুর গ্রামে। এটিই জমিরিয়া তা'লিম ও তায্কিয়া পরিষদের প্রধান কার্যালয়।
জামিয়ার প্রথম কয়জন মুহতামিম কারা ছিলেন?
প্রথম শাহ্ আমীরুদ্দীন (রহ.), দ্বিতীয় আল্লামা শাহ্ সুলতান আহমদ নানুপুরী (রহ.) এবং তৃতীয় আল্লামা শাহ্ জমীর উদ্দীন নানুপুরী (রহ.)। বর্তমান মুহতামিম আল্লামা শাহ্ ছালাহ্ উদ্দীন নানুপুরী।
জামিয়ার মুহতামিম কি পরিষদেরও প্রধান?
হ্যাঁ, পরিষদের চেয়ারম্যান জামিয়ার বর্তমান মুহতামিম আল্লামা শাহ্ ছালাহ্ উদ্দীন নানুপুরী।
এই লেখা পরিষদের সম্পাদনা পরিষদের পক্ষ থেকে সাধারণ দিকনির্দেশনার জন্য। ফিকহী বা আইনগত বিষয়ে নির্ভরযোগ্য আলেম বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
