পরিষদের লোগোজমিরিয়া তা'লিম ও তায্‌কিয়া পরিষদ বাংলাদেশঘরে ঘরে আলেম ও মুত্তাকী বান্দা, উন্নত হোক দেশের শিক্ষা

মাসিক প্রতিবেদন কীভাবে লিখবেন: ধাপে ধাপে

৬ নভেম্বর ২০২৬ · ৬ মিনিটে পড়া · জমিরিয়া তা'লিম ও তায্‌কিয়া পরিষদ

মাসিক প্রতিবেদন লেখার সহজ পথ হলো মাসের শেষে হিসাবের খাতা থেকে আয় ও ব্যয়ের যোগফল খাত ধরে ধরে বের করা, ছাত্র-শিক্ষকের সংখ্যা ও পড়াশোনার অগ্রগতি লিখে পরের মাসের ১০ তারিখের মধ্যে পরিষদের পোর্টালে জমা দেওয়া। খাতা নিয়মিত লেখা থাকলে প্রতিবেদন তৈরি করতে বেশি সময় লাগে না। আর খাতা এলোমেলো থাকলে প্রতিবেদনও এলোমেলো হয়। তাই আগে খাতা ঠিক রাখুন, তারপর প্রতিবেদন।

মাসিক প্রতিবেদন কেন দিতে হয়?

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতিটি মাদরাসা প্রতি মাসে আয়-ব্যয়, শিক্ষক-ছাত্র সংখ্যা ও পড়াশোনার অগ্রগতির সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন পরিষদে জমা দেবে। এতে মাদরাসা নিজের অবস্থা নিয়মিত বোঝে, আর পরিষদ সময়মতো সমস্যা ধরে সাহায্য করতে পারে। বছর শেষে অডিটের কাজও সহজ হয়। এটি শাস্তির জন্য নয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির নিয়মিত অভ্যাস গড়ার জন্য।

কবে জমা দিতে হবে?

পোর্টালে প্রতি মাসের প্রতিবেদন পরের মাসের ১০ তারিখের মধ্যে জমা দিতে হয়। যেমন, জানুয়ারির প্রতিবেদন ফেব্রুয়ারির ১০ তারিখের মধ্যে। তাই মাসের শেষ সপ্তাহেই খাতা মিলিয়ে রাখুন, যেন ১০ তারিখে তাড়াহুড়া না হয়। দেরি হলে কারণ জানিয়ে দ্রুত জমা দিন।

প্রতিবেদনের আগে কী কী প্রস্তুত করবেন?

প্রতিবেদন লেখার আগে এই জিনিসগুলো হাতে রাখুন:

  • মাসের আয়-ব্যয়ের খাতা এবং রসিদ ও ভাউচারের ফাইল।
  • ক্যাশ ও ব্যাংকে সত্যিকারের জমা ও খাতার জমা মেলানো।
  • ছাত্র ও শিক্ষকের বর্তমান সংখ্যা (নতুন ভর্তি, চলে যাওয়া ছাত্র ও শিক্ষকসহ)।
  • পড়াশোনার অগ্রগতির নোট: কোন স্তরে কতটুকু পড়া হলো, কোনো বাধা এসেছে কি না।

হিসাবের খাতা কীভাবে রাখবেন তা পড়ুন হিসাবের খাতা: আয়-ব্যয়, রসিদ ও ভাউচার লেখায়।

আয়ের খাতগুলো কীভাবে ভাগ করবেন?

পোর্টালের ফর্মে আয় ছয়টি খাতে লিখতে হয়। প্রতিটি আয় সঠিক খাতে বসানো জরুরি।

  • চাঁদা: সাধারণ চাঁদা।
  • সদাকা: সদাকা হিসেবে পাওয়া অর্থ।
  • যাকাত: যাকাত হিসেবে পাওয়া অর্থ।
  • ছাত্র ফি: ছাত্রদের কাছ থেকে নেওয়া ফি।
  • নিজস্ব আয়: মাদরাসার নিজের উৎস থেকে আয় (যেমন জমি বা দোকানের আয়)।
  • অন্যান্য: যা উপরের কোনো খাতে পড়ে না।

যাকাত, সদাকা ও চাঁদার তহবিল আলাদা রাখা জরুরি। কোন অর্থ কোন খাতে যাবে, তা নিয়ে শরয়ী প্রশ্ন থাকলে নির্ভরযোগ্য মুফতী সাহেবের পরামর্শ নিন। হিসাবের দিক জানতে দেখুন চাঁদা, সদাকা ও যাকাতের তহবিল আলাদা রাখার নিয়ম।

ব্যয়ের খাতগুলো কী কী?

ব্যয়ও ছয়টি খাতে ভাগ হয়: বেতন, খোরাকি, ভবন, কিতাব, বিদ্যুৎ-পানি, যাতায়াত এবং অন্যান্য। যেমন শিক্ষকদের বেতন বেতনের খাতে, ছাত্রদের খাবার খোরাকির খাতে, মেরামত ভবনের খাতে। একটি খরচ কোন খাতে পড়বে সন্দেহ হলে নিজেদের জন্য একটি লিখিত নিয়ম করে নিন এবং সব মাসে একই নিয়ম মানুন। তাতে মাসে মাসে তুলনা করা সহজ হয়।

পোর্টালে জমা দেওয়ার ধাপগুলো কী?

  1. মাদরাসার লগইন দিয়ে পোর্টালে ঢুকুন।
  2. মাসিক প্রতিবেদনের ফর্ম খুলুন এবং মাস নির্বাচন করুন।
  3. আয়ের ছয়টি খাতে অঙ্ক বসান, তারপর ব্যয়ের খাতগুলোতে।
  4. ছাত্র ও শিক্ষকের সংখ্যা এবং পড়াশোনার অগ্রগতি লিখুন।
  5. মোট আয়, মোট ব্যয় ও বাকি টাকা খাতার সাথে মিলিয়ে নিন।
  6. ভুল না থাকলে জমা দিন এবং নিজেদের কাছে একটি কপি রাখুন।

জমা দেওয়ার আগে একজন দায়িত্বশীল, যেমন সহকারী মুহতামিম বা হিসাবরক্ষক, প্রতিবেদনটি দেখে নিলে ভুল কমে।

সাধারণ ভুলগুলো কী?

  • আয়ের খাত ভুল বসানো, বিশেষ করে যাকাত ও সাধারণ চাঁদা মিলিয়ে ফেলা।
  • রসিদ ছাড়া অঙ্ক বসিয়ে দেওয়া।
  • বেতন বাকি থাকলে তা না দেখিয়ে শুধু পরিশোধ হওয়া অংশ লেখা।
  • ছাত্র বা শিক্ষকের সংখ্যা আন্দাজে লেখা।
  • ১০ তারিখের পর জমা দেওয়া।

কুরআন ও হাদীসের আলোকে

এই বিষয়ে কুরআন ও হাদীসের একটি করে নির্দেশনা দেখা যায়।

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا تَدَايَنتُم بِدَيْنٍ إِلَىٰٓ أَجَلٍۢ مُّسَمًّۭى فَٱكْتُبُوهُ ۚ وَلْيَكْتُب بَّيْنَكُمْ كَاتِبٌۢ بِٱلْعَدْلِ ۚ وَلَا يَأْبَ كَاتِبٌ أَن يَكْتُبَ كَمَا عَلَّمَهُ ٱللَّهُ ۚ فَلْيَكْتُبْ وَلْيُمْلِلِ ٱلَّذِى عَلَيْهِ ٱلْحَقُّ وَلْيَتَّقِ ٱللَّهَ رَبَّهُۥ وَلَا يَبْخَسْ مِنْهُ شَيْـًۭٔا ۚ فَإِن كَانَ ٱلَّذِى عَلَيْهِ ٱلْحَقُّ سَفِيهًا أَوْ ضَعِيفًا أَوْ لَا يَسْتَطِيعُ أَن يُمِلَّ هُوَ فَلْيُمْلِلْ وَلِيُّهُۥ بِٱلْعَدْلِ ۚ وَٱسْتَشْهِدُوا۟ شَهِيدَيْنِ مِن رِّجَالِكُمْ ۖ فَإِن لَّمْ يَكُونَا رَجُلَيْنِ فَرَجُلٌۭ وَٱمْرَأَتَانِ مِمَّن تَرْضَوْنَ مِنَ ٱلشُّهَدَآءِ أَن تَضِلَّ إِحْدَىٰهُمَا فَتُذَكِّرَ إِحْدَىٰهُمَا ٱلْأُخْرَىٰ ۚ وَلَا يَأْبَ ٱلشُّهَدَآءُ إِذَا مَا دُعُوا۟ ۚ وَلَا تَسْـَٔمُوٓا۟ أَن تَكْتُبُوهُ صَغِيرًا أَوْ كَبِيرًا إِلَىٰٓ أَجَلِهِۦ ۚ ذَٰلِكُمْ أَقْسَطُ عِندَ ٱللَّهِ وَأَقْوَمُ لِلشَّهَٰدَةِ وَأَدْنَىٰٓ أَلَّا تَرْتَابُوٓا۟ ۖ إِلَّآ أَن تَكُونَ تِجَٰرَةً حَاضِرَةًۭ تُدِيرُونَهَا بَيْنَكُمْ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَلَّا تَكْتُبُوهَا ۗ وَأَشْهِدُوٓا۟ إِذَا تَبَايَعْتُمْ ۚ وَلَا يُضَآرَّ كَاتِبٌۭ وَلَا شَهِيدٌۭ ۚ وَإِن تَفْعَلُوا۟ فَإِنَّهُۥ فُسُوقٌۢ بِكُمْ ۗ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ ۖ وَيُعَلِّمُكُمُ ٱللَّهُ ۗ وَٱللَّهُ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌۭ

হে মুমিনগণ! যখন তোমরা কোন নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে ঋনের আদান-প্রদান কর, তখন তা লিপিবদ্ধ করে নাও এবং তোমাদের মধ্যে কোন লেখক ন্যায়সঙ্গতভাবে তা লিখে দেবে; লেখক লিখতে অস্বীকার করবে না। আল্লাহ তাকে যেমন শিক্ষা দিয়েছেন, তার উচিত তা লিখে দেয়া। এবং ঋন গ্রহীতা যেন লেখার বিষয় বলে দেয় এবং সে যেন স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করে এবং লেখার মধ্যে বিন্দুমাত্রও বেশ কম না করে। অতঃপর ঋণগ্রহীতা যদি নির্বোধ হয় কিংবা দূর্বল হয় অথবা নিজে লেখার বিষয়বস্তু বলে দিতে অক্ষম হয়, তবে তার অভিভাবক ন্যায়সঙ্গতভাবে লিখাবে। দুজন সাক্ষী কর, তোমাদের পুরুষদের মধ্যে থেকে। যদি দুজন পুরুষ না হয়, তবে একজন পুরুষ ও দুজন মহিলা। ঐ সাক্ষীদের মধ্য থেকে যাদেরকে তোমরা পছন্দ কর যাতে একজন যদি ভুলে যায়, তবে একজন অন্যজনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। যখন ডাকা হয়, তখন সাক্ষীদের অস্বীকার করা উচিত নয়। তোমরা এটা লিখতে অলসতা করোনা, তা ছোট হোক কিংবা বড়, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। এ লিপিবদ্ধ করণ আল্লাহর কাছে সুবিচারকে অধিক কায়েম রাখে, সাক্ষ্যকে অধিক সুসংহত রাখে এবং তোমাদের সন্দেহে পতিত না হওয়ার পক্ষে অধিক উপযুক্ত। কিন্তু যদি কারবার নগদ হয়, পরস্পর হাতে হাতে আদান-প্রদান কর, তবে তা না লিখলে তোমাদের প্রতি কোন অভিযোগ নেই। তোমরা ক্রয়-বিক্রয়ের সময় সাক্ষী রাখ। কোন লেখক ও সাক্ষীকে ক্ষতিগ্রস্ত করো না। যদি তোমরা এরূপ কর, তবে তা তোমাদের পক্ষে পাপের বিষয়। আল্লাহকে ভয় কর তিনি তোমাদেরকে শিক্ষা দেন। আল্লাহ সব কিছু জানেন।

সূরা বাকারা, আয়াত ২:২৮২

লেনদেন লিখে রাখার এই নির্দেশ হিসাব-নিকাশের স্বচ্ছতার মূল ভিত্তি। আয়-ব্যয়ের খাতা, রসিদ ও ভাউচার রাখা এই শিক্ষারই বাস্তব রূপ।

عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ فَإِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَى الْبِرِّ وَإِنَّ الْبِرَّ يَهْدِي إِلَى الْجَنَّةِ وَمَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَصْدُقُ وَيَتَحَرَّى الصِّدْقَ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ صِدِّيقًا وَإِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ فَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الْفُجُورِ وَإِنَّ الْفُجُورَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ وَمَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَكْذِبُ وَيَتَحَرَّى الْكَذِبَ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ كَذَّابًا

ভাবার্থ: তোমরা সত্যকে আঁকড়ে ধরো; সত্য নেকীর পথ দেখায়, আর নেকী জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়।

সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৬০৭

সত্যবাদিতা হিসাবেও জরুরি। যা আয় হয়েছে ও যা ব্যয় হয়েছে তা যেমন তেমন লেখা এবং কোনো কিছু গোপন না করাই আমানতদারি।

সংক্ষেপে করণীয়

  • মাসের শেষে খাতা, ক্যাশ ও ব্যাংকের জমা মিলিয়ে নিন।
  • আয়ের ছয়টি ও ব্যয়ের খাতগুলোতে সঠিকভাবে অঙ্ক ভাগ করুন।
  • যাকাত, সদাকা ও চাঁদা আলাদা রাখুন।
  • পরের মাসের ১০ তারিখের মধ্যে পোর্টালে জমা দিন।
  • জমার আগে দ্বিতীয় একজন দেখে নিন এবং নিজেদের কপি রাখুন।

প্রশ্নোত্তর

মাসে আয় না হলে কি প্রতিবেদন দিতে হবে?

হ্যাঁ। আয় না থাকলেও প্রতিবেদন দিতে হয়, কারণ ব্যয়, ছাত্র-শিক্ষকের সংখ্যা ও পড়াশোনার অগ্রগতিও জানানো জরুরি। শূন্য আয়ও সত্য তথ্য।

১০ তারিখের মধ্যে জমা দিতে না পারলে কী করব?

যত দ্রুত সম্ভব জমা দিন এবং দেরির কারণ পরিষদকে জানান। নিয়মিত দেরি হলে কেন হচ্ছে তা খুঁজে খাতা লেখার সময় ঠিক করুন।

প্রতিবেদনের তথ্য কি অডিটের সময় মিলিয়ে দেখা হয়?

বার্ষিক অডিটে আয়-ব্যয়ের খাতা, রসিদ-ভাউচার, তহবিলের পৃথকীকরণ ও বেতনের হিসাব যাচাই করা হয়। তাই মাসিক প্রতিবেদন খাতার সাথে মিলে থাকা জরুরি। এ সম্পর্কে পড়ুন অডিট প্রতিবেদন কীভাবে পড়বেন ও কাজে লাগাবেন।

হিসাব বুঝি না, কার সাহায্য নেব?

কমিটির কোনো হিসাব-বোঝা সদস্য বা অভিজ্ঞ হিসাবরক্ষকের সাহায্য নিন। প্রয়োজনে পরিষদের কাছেও পরামর্শ চাইতে পারেন যোগাযোগ পাতা থেকে।

এই লেখা পরিষদের সম্পাদনা পরিষদের পক্ষ থেকে সাধারণ দিকনির্দেশনার জন্য। ফিকহী বা আইনগত বিষয়ে নির্ভরযোগ্য আলেম বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

#মাসিক প্রতিবেদন#আয়-ব্যয়#পোর্টাল#হিসাব#মাদরাসা

আরও পড়ুন

অডিট ও হিসাব

মাসিক অডিট: মাদরাসার জন্য চেকলিস্ট

মাসের শেষে মাদরাসার হিসাব মেলানোর ধাপে ধাপে চেকলিস্ট: ক্যাশ, রসিদ, ভাউচার, বেতন ও তহবিল কীভাবে পরীক্ষা করবেন।

৬ মিনিটে পড়া · ৬ নভেম্বর ২০২৬

অডিট ও হিসাব

হিসাবের খাতা: আয়-ব্যয়, রসিদ ও ভাউচার

মাদরাসার ক্যাশবই, রসিদ বই ও ভাউচার ফাইল কীভাবে রাখবেন, কী কী লিখবেন এবং কোন ভুলগুলো এড়াবেন, তার সহজ ব্যবহারিক নির্দেশিকা।

৬ মিনিটে পড়া · ৬ নভেম্বর ২০২৬

অডিট ও হিসাব

চাঁদা, সদাকা ও যাকাতের তহবিল আলাদা রাখার নিয়ম

মাদরাসায় চাঁদা, সদাকা ও যাকাতের টাকা কেন আলাদা রাখতে হয়, কীভাবে হিসাব রাখবেন এবং ব্যয়ের শরয়ী প্রশ্নে কার কাছে যাবেন।

৬ মিনিটে পড়া · ৬ নভেম্বর ২০২৬

অডিট ও হিসাব

অডিট প্রতিবেদন কীভাবে পড়বেন ও কাজে লাগাবেন

বার্ষিক অডিট প্রতিবেদনের সাতটি ক্ষেত্র, গ্রেড, আর্থিক চিত্র, দুর্বলতা ও সুপারিশ কীভাবে পড়বেন এবং উন্নতির কাজে লাগাবেন, তার সহজ নির্দেশিকা।

৬ মিনিটে পড়া · ৬ নভেম্বর ২০২৬